জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: নীহার রঞ্জন নন্দীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা: বিনোদ শেখর চাকমা, দৈনিক গিরিদর্পণের সম্পাদক এ কে এম মকসুদ আহমদ, দৈনিক রাঙামাটির সম্পাদক মো. আনোয়ার আল হক।
এতে রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পুষ্টি বিষয়ক ইউনিসেফের একটি জরিপ উপস্থাপন করা হয়। যেখানে দেখা যায় খর্বতা/খাটো অর্থাৎ নির্দিষ্ট ওজন ২৫ হাজার গ্রামের নিচে জন্ম নেয়া শিশুর সংখ্যা বাংলাদেশে যেখানে ৩৬ শতাংশ সেখানে রাঙামাটিতে ৫১.৪ শতাংশ। মায়ের পুষ্টিহীনতার কারণেরই রাঙামাটির এমন করুণ অবস্থা বলে মনে করেন ডা: বিনোদ শেখর চাকমা। তিনি আরো জানান, পার্বত্যাঞ্চলে বিভিন্ন বিশ^াসের কারণে অনেকে মারা যাওয়া পশুর মাংস খাই, যেখানে কোন পুষ্টিগুণই থাকে না। তাছাড়াও অনেকে জানেন না কোন পুষ্টি উপাদানের জন্য কোন জিনিস কখন খাওয়া প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, রাঙাামাটি পুষ্টি সেক্টর খুবই অবহেলিত। যা সকলের সহযোগিতাই কাজ করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত সির্ভিল সার্জন ডা: নীহার রঞ্জন নন্দী বলেন, একজন শিশু ১হাজার দিন অর্থাৎ দ্ইুবছর বয়স পর্যন্ত সঠিক পুষ্টি পেলে ভবিষ্যতের অনেক দীর্ঘমেয়াদী রোগব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। সে জন্য তিনি শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো পরামর্শের পাশ^াপাশি শিশুর জন্মের আগে গর্ভবতী মহিলাদেরও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। এতে করে খর্বতা রোগসহ বিভিন্ন রোগ মুক্ত শিশু জন্মনিবে বলে তিনি জানান।
গত ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাঙামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ।
