রোগীর মাতৃভাষা চাকমা,ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাংলা ভাষায় তার দক্ষতা কম,কিন্তু শুধুমাত্র বাংলা ভাষা না জানার কারণেই অপমানিত হতে হলো একজন প্রবীন রোগি ও তার স্বজনকে ! এই ঘটনা গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় রোগীর স্বজনকে অপমানের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ৮ এপ্রিল এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নূরুল হক । তিন অধ্যাপককে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন জমা দিবেন। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
নূরুল হক জানিয়েছেন, ‘ ভুক্তভোগী ওই রোগীর কাছ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি,যাতে তিনি বাংলা ভাষা না জানায় চিকিৎসক তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল চিকিৎসা নিতে গিয়ে আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক গ্যাস্ট্রোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মোসলেহ উদ্দিন শাহেদের হাতে অপমানিত হন রোগী তরুণ কান্তি চাকমা ও তার ছেলে এলিন চাকমা।
এলিন চাকমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বেশকিছু দিন ধরে পেটসহ শরীরে নানা সমস্যায় ভুগছিলেন এলিনের বাবা তরুণ কান্তি চাকমা। বাবাকে চিকিৎসা করাতে এলিন ওই দিন চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার বিষয়ে এলিন চাকমা বলেন, ‘বাবাকে ডাক্তার দেখাতে আমরা ওই দিন হাসপাতালে যাই। টিকিট কেটে ডা. মোসলেহ উদ্দিন শাহেদের কক্ষে গেলে তিনি সমস্যার কথা জানতে চান বাবার কাছ থেকে। বাবাকে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কী করেন? কিন্তু বাবা বাংলা ভাষা না জানায় চিকিৎসকের জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে পারছিলেন না। তখন আমি চিকিৎসককে বলি বাবা বাংলা বলতে পারেন না, তেমন বুঝতেও পারেন না। আমাদের এলাকায় কোনও বাঙালি পরিবার নেই। তাই বাবার সঙ্গে আমি এসেছি। আমি বললাম বাবার পেটে সমস্যা। ঠিকমত প্রসাব হয় না। তখন ডাক্তার আমাকে চুপ করিয়ে আবারও বাবাকে সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করেন। এ সময় তিনি উচ্চস্বরে বাবাকে বলেন, আপনি বাংলা বুঝেন না? বাংলা বলতে পারেন না? বাড়ি কোথায়? তখন বাবা একদম হতভম্ব হয়ে যান। তখন তিনি কিছুই বলতে পারছেন না। এ সময় আমি ডাক্তারকে বললাম আমাদের বাড়ি রাঙামাটি। চিকিৎসক বাবাকে বললেন বাংলাদেশে থাকেন বাংলা বলতে পারেন না। এদেশে থাকলে অবশ্যই বাংলা পারতে হবে। তখন আমি চিকিৎসককে বললাম, বাবা একদম পড়াশুনা করেননি। তাই বাংলা বলতে পারেন না।’
তখন চিকিৎসক আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘আপনি চুপ করুন।’ তিনি বাবাকে বলতে থাকেন, ‘বাংলা পারেন না কেন? বাংলা শিখেননি কেন?’ বাবাকে এভাবে বলছেন কেন জানতে চাইলে চিকিৎসক উচ্চস্বরে বলে উঠেন, ‘আপনি আমার সাথে তর্ক করছেন? আপনার স্পর্ধা তো কম নয়। গেট আউট। বাংলা পারে না আবার আসছে তর্ক করতে। এসব মানুষ কোথা থেকে যে আসে?’
এই বিষয়ে ডাক্তার মোসলেহ উদ্দীনের বক্তব্য নিতে পারেনি গণমাধ্যম কর্মীরা।
(সংবাদ কৃতজ্ঞতা- বাংলা ট্রিবিউন)