সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘পাহাড়ে আজ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজমান। এখানকার মানুষ আজ আর্থিক অস্বচ্ছলতা, থমথমে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করছে। আমরা এই উৎসবের মধ্য দিয়ে আহ্বান রাখবো- এই উৎসব থেকেই যেনো ভ্রাতৃত্ববন্ধন সৃষ্টি হয়।’
মঙ্গলবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী ও প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠান বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু, সাংক্রান উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন দেওয়ার সুপারিশের বিষয়ে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি দেখলাম সংসদীয় কমিটি থেকে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন দেওয়ার সুপারিশ এসেছে। আমি সরকার ও সংসদীয় কমিটিকে সাধুবাদ জানাই। আমরাও চাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোক। জেলা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের পুর্নবাসন কেন্দ্র যেনো না হয়।’
জনসংহতি সমিতির এই নেতা বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যতই এমনভাবে ফেলে রাখা হবে, ততই এনিয়ে নানা ধরণের উপসর্গ উদ্ভব হবে। তাই আমি বলবো এ ব্যাপারে সরকার, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’ ঊষাতন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে বাস্তবভাবে অনুধাবন করতে হবে, যাতে করে আমরা ভুল পথে না যাই।’
এসময় তিনি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসী কায়দায় অস্ত্রবাজি করে সমাধান নয়, আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সমাধানে আসতে হবে। পাহাড়ে অশান্তি, গোলযোগ বন্ধ না হলে উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।’
এর সকালে ‘জুম্ম সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও অধিকার নিশ্চিত করুনে ঐক্যবদ্ধ হোন’ এই স্লোগানে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু সাংক্রান উদযাপন কমিটির উদ্যোগে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ডিসপ্লে প্রদর্শন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। পরে নৃ-গোষ্ঠী শিল্পীদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে বিশিষ্ট গবেষক ও শিক্ষাবিদ মংসানু চৌধুরী ও বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু সাংক্রান উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক ইন্দ্র লাল চাকমা বক্তব্য রাখেন। শেষে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে মূলত বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পাহাড়িরা এতে অংশ নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই শোভাযাত্রায় নিজেদের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি তুলে ধরে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরে। আনন্দ-আমেজে বৈসাবি উপলক্ষে সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দেয় এই শোভাযাত্রা।
এদিকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু সাংক্রান উদযাপন কমিটির আয়োজনে আগামীকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় রাঙামাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। তিনদিন ব্যাপি অনুষ্ঠানমালার শেষ দিন শুক্রবার সকাল ছয়টায় রাঙামাটি রাজবন বিহারের পূর্বঘাটে মঙ্গল কামনায় ফুল ভাসানো অনুষ্ঠান করা হবে।
