পার্বত্য জেলা শহর রাঙামাটিতে রোববার সাড়ম্বরে শুরু হলো ১৫তম ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম সংস্কৃতি মেলা। পার্বত্য সংস্কৃতি মেলার সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করার প্রবল ইচ্ছে নিয়ে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হতে না হতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ইনস্টিটিউটরের পুরো প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হতে শুরু করে পাহাড়ি নারী-পুরুষের সমাগমে। পাহাড়ি নারী পুরুষ ব্যতীতও শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণীরাও মেলায় ভিড় জমাতে থাকে। দেশীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি যেন নিজস্ব সংস্কৃতিকে বুকে লালন করার এক অনন্য প্রয়াস। তাদের চোখে মুখে ছিলো বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে নিজ এবং বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে সকলের মাঝে এ উৎসবকে ভাগাভাগি করে নেয়া।
জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল (জাক)এর উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর রাঙামাটি যেনো পরিণত হয়েছিলো সংস্কৃতি মিলন মেলায়। ‘বৈচিত্রময় সংস্কৃতির মেলায় দাঁড়াও জুম পাহাড়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রোববার সন্ধ্যায় উদ্বোধনী সভা, সম্মাননা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
তিন বছর বিরতির পর জাক’র এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন পাহাড়ের বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী রনজিত দেওয়ান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য নাট্যকার মামুনুর রশীদ। সভাপতিত্ব করেন জাক’র সভাপতি শিশির চাকমা। উদ্বোধনী সভায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য তিন বিশিষ্ট শিল্পী ও গবেষককে জাক সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা শেষে মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।
পাহাড়িদের সংস্কৃতি চর্চায় নিবেদিত সংগঠন জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিল দীর্ঘ দু’যুগ ধরে এ সংগঠন এখানকার সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে আধুনিক সংস্কৃতির পাশাপাশি বরাবরই প্রাধান্য পেয়ে আসছে ঐতিহ্যময় লোকজ সংস্কৃতি। ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হবে আগামী ৯ এপ্রিল। বাকী দু’দিন বম, চাকমা, ত্রিপুরা ও ¤্রাে সাংস্কৃতিক দলের মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা ছাড়াও তঞ্চঙ্গ্যা নাটক, চাকমা পরিবেশন করা হবে।
