পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারি তৃতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠি মারমা’দের প্রধানতম সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই। বর্ষবরণ ও বিদায়ের এই আয়োজনটিকে ঘিরে প্রতিবছর মুখরিত হয়ে উঠে পার্বত্য জনপদ। এই মারমাদেরই প্রতিনিধিত্বকারি সবচে বড় সংগঠন মারমা সামাজিক সংস্থা(মাসাস) গত ২৮ মার্চ গনমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ‘পাহাড়ের বর্তমান পরিবেশ অনুকূলে না থাকায়’ এবার সাংগ্রাই জলোৎসব ‘পালন করা হবে না’ বলে জানিয়েছিলো। এই ঘোষণায় ‘হতাশ’ হয় মারমা জনগোষ্ঠি এবং উৎসব উপলক্ষ্যে পাহাড়ে বেড়াতে আসেন এমন মানুষও। উৎসব পালন না করার জন্য সরাসরি কোন কারণকে না দুষলেও বাস্তবতা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য রাঙামাটিতে আঞ্চলিক দলগুলোর ব্যাপক সশস্ত্র তৎপরতা এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সাথে জড়িত কয়েকজন মারমা নেতাকে হত্যার হুমকি দেয়ার কারণেই মূলত: উৎস থেকে পিছটান দিয়েছিলেন মারমা নেতারা।
কিন্তু মারমা নেতাদের এই ঘোষণার আর সবার মতোই হতাশ হন পার্বত্য রাঙামাটির প্রধান নেতা দীপংকর তালুকদার এমপিও। তিনি গত ২ এপ্রিল রাঙামাটির ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট এর উদ্যোগে আয়োজিত বৈসাবি মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘জলউৎসব পালন না করার কথা আমি শুনেছি, তাদের সাথে আমার কথা হয়নি,তবে হতাশ হবার কিছু নেই রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ে জনপ্রিয় জলউৎসবব হবে। আমি পাহাড়ি বাঙালী সবাইকে বৈসাবির আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, তিনি আরও বলেন আমরা সকল সম্প্রদায় মিলে সম্প্রিতির মাধ্যমে সকল অনুষ্ঠান মালা সুন্দর ভাবে পালন করতে পারবো। ’ দীপংকর তালুকদার আরো বলে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাহাড়ের সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াব এটাই এ বছরের আমাদের প্রত্যাশা।
একই সময় রাঙামাটির বিগ্রেড কমান্ডার সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ বলেন, আগে পাহাড়ে যে সব অনুষ্ঠান হতো সব অনুষ্ঠানই হবে এটা আমার বিশ্বাস এবং এ অঞ্চলের সকল অধিবাসিকে আগাম শুভেচ্ছে জানাচ্ছি।’
দীপংকরের এই ঘোষণার পরই তিনি নিজে মারমা নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাদের সাংগ্রাই জলউৎসব করার পরামর্শ দেন ও অনুরোধ করেন। তিনি উৎসব আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে মারমা নেতারা দ্রুতই সভা করেন এবং সভায় প্রতিবছরের মতো এবারও সাংগ্রাই জলোৎসব অনুষ্ঠিত করার বিষয়ে একমত হন।
মারমা সামাজিক সংস্থা (মাসাস) এর সভাপতি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ অংসুইপ্রু চৌধুরী জানিয়েছেন, দাদা(দীপংকর তালুকদার)’র সার্বিক সহযোগিতায় এবং তার ব্যক্তিগত অনুরোধের কারণে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও সাংগ্রাই উৎসব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আপনাদেরকে এটা বলতে পারি, শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উৎসব তার সামাজিক ও ঐতিহ্য বজায় রেখেই উৎসবমুখর হবে।’
তিনি এই আয়োজনের জন্য পুরো কৃতিত্ব দীপংকর তালুকদারকে দেন এবং তার সার্বিক উদ্যোগেই অবশেষে সাংগ্রাই উৎসবটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এবার সাংগ্রাই কর্মসূচী পালিত হবে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালীতে।
