বাঘাইড়ির ঘটনা নির্বাচনী কর্মীদের ওপর হামলা পরিকল্পিত মন্তব্য করে তদন্ত কমিটির প্রধান দীপক চক্রবর্তী জানান, প্রাথমিকভাবে কথা বলে যেটা আমরা বুঝতে পেরেছি এটা প্লানড অ্যামবুশ। কাছ থেকে টার্গেট করেই গুলি করা হয়েছে। তবে এখনই আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো না। আমরা সব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছি।
বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে ঘটনায় হতাহতের তিন দিন পর বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির বাঘাইছড়ি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি একথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তদন্ত কমিটি বাঘাইছড়ির নয় কিলো এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেন তদন্ত কমিটি। এসময় তারা ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহেরও চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের সাথে কথা বলেন তদন্ত কমিটি। এছাড়া ঐদিন গাড়িতে থাকা আরো বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলেন তদন্ত কমিটি।
এসময় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি(ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আবু ফয়েজ, বাঘাইহাট জোনের মেজর আশরাফ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমেদ, চট্টগ্রাম ৩০ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক মো. নুরুল আমিন, সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি(ক্রাইম ও প্রশাসন) আবু ফয়েজ বলেন, পাহাড়ে কিছু সংগঠনের মধ্যে অন্তকোন্দল আছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এটা হচ্ছে। তবে এভাবে তো আর সব কিছু চলতে দেওয়া যায় না। তাই তো কিভাবে আমরা এই ধরনের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারি, সে চেষ্টায় থাকবে।
এদিকে গত মঙ্গলবার বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সুরেশ কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাকে হত্যার ৪৮ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও এখনও কোনও মামলা হয়নি। বৃহস্পতিবার বিকালে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পারভেজ আলী জানান, ‘বুধবার দুপুরে নিহতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। পরিবার কিংবা দলের পক্ষ থেকে এখনও কেউ মামলা দায়ের করেনি।’ এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখনও মামলা না করা হলেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরিবার কিংবা দলের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।’
বাঘাইছড়ি সাত খুন ও বিলাইছড়িতে আওয়ামীলীগ নেতা খুনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে বাঘাইছড়িতে মানববন্ধন করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপি মানববন্ধনে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর শুক্কুর মিয়ার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি পৌরসভার মেয়র জাফর আলী খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর সবুর, প্রেস ক্লাব সভাপতি দিলীপ কুমার দাশ, সাবেক ইউপি চেয়াম্যান মো. আব্দুল আজিজসহ স্থানীয় শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা আট খুনের ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার এবং অতিসত্ত্বর পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেরও দাবি জানান।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেছেন, বাঘাইছড়ির ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সন্ত্রাসীদের কোনও ছাড় দেয়া হবে না।
জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর আমাদের পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করবো। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাচন পরিষদের ভোট সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে নয় কিলো এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সাতজন। এসময় আহত হয় ২৭ জন। ঘটনার পর বিভাগীয় কমিশনার ৭ বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটি বুধবার রাতে সার্কিট হাউসে প্রথম সভায় বসে। পরেরদিন বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
