টানা এক যুগের ধারাবাহিকতা আর ঐতিহ্যকে এবারো পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে মহান একুশে উপলক্ষে বর্ণলিখন,চিত্রাংকন ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে গ্লোবাল ভিলেজ রাঙামাটি ও স্কুলবেলা।
২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর রাঙামাটি শহীদ মিনারে কোমলমতি শিশুদের জন্য আয়োজনটি পালন করে আসছে সংগঠনটি।
একুশের সকাল সাতটায় বরাবরের মতোই রাঙামাটি শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হয় কয়েকশত শিশু কিশোর। শিশু শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত আয়োজিত এইসব প্রতিযোগিতা শেষে সবচে বড় চমক ছিলো সকল শিশুকে বিজয়ী ঘোষণা করা । আয়োজকদের পক্ষ থেকে ফজলে এলাহী ঘোষণা দেন, ‘ প্রতিবছরই আমরা এই আয়োজনটা করি এবং তিনটি বিভাগে ৬০ জনের মতো শিশুকে পুরষ্কার দিই। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, পুরষ্কার না পাওয়া শিশুরা মন খারাপ করে ফিরে যায়, অথচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিশুদের সবার পারফরম্যান্সে খুব একটা পার্থক্য থাকেনা। তাই শিশু মুখের হাসি ধরে রাখতেই আমরা এবার সবাইকে বিজয়ী ঘোষণা করেছি।’
প্রতিযোগিতার কার্যক্রম আঁকা ও লেখা পরিদর্শন করে সবার হাতে পুরষ্কার তুলে দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এনডিসি। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) শাহীনুর আলম,জনসংযোগ কর্মকর্তা মংছেন রাখাইন, কবি হাসান মঞ্জু, মনির আহমেদ, চারুশিল্পী রেজাউলি করিম,মো: ইব্রাহীম,স্কুলবেলার প্রতিষ্ঠাকালিন সম্পাদক জসীমউদ্দীন,গ্লোবাল ভিলেজের পরিচালক হেফাজত সবুজ, প্রচার সহযোগি পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম ও দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রামের বার্তা সম্পাদক ইয়াছিন রানা সোহেল,ডেস্ক ইনচার্জ শংকর হোড়,সহ সম্পাদক সাইফুল বিন হাসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ডিবেট ফেডারেশনের সংগঠক ইশরাত জাহান ও তুষার ধর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, ‘ এটি একটি অসাধারণ আয়োজন। ছোট্ট শিশুদের নিয়ে একুশের সকালে একটি আয়োজন টানা বারো বছর ধরে চালিয়ে নেয়া ছোট্ট কোন ঘটনা নয়। আমি উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই। আমি চাই এই আয়োজনটি ধারাবাহিকভাবে চলুক।’ প্রধান অতিথি তার পক্ষ থেকেও বিজয়ী সকল শিশুর হাতে রঙ তুলির একটি সুন্দর বক্স তুলে দেন।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই বিজয়ী হওয়া ১৯৩ জন শিশুর প্রত্যেকের হাতেই তুলে দেয়া হয় ক্রেস্ট,সনদপত্র ও রঙের বক্স। পরে এইসব শিশুরা সবাই শহীদ মিনারে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও দেশপ্রেমের শপথ নেয় এবং উচ্চস্বরে ‘জয়বাংলা’ ‘জয়বাংলা’ শ্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো শহীদ মিনার চত্বর।
