পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, ‘প্রতিক্রিয়াশীলরা কূট-কৌশলে জুম্মদের উচ্ছেদ-বিতাড়ণের জন্য পাঁয়তারা করে চলছে। তাই তরুণ সমাজকে এসব নিয়ে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে কীভাবে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়।’
ররিবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার ২১তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রতিক্রিয়াশীল, সুবিধাভোগী ও চুক্তি বিরোধীদের প্রতিহত করুন; পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে ছাত্র-যুব সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়–ন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি রিন্টু চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জুয়েল চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙামাটি জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর ত্রিপুরা নান্টু, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক শান্তি দেবী তঞ্চঙ্গ্যা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের রাঙামাটি জেলার সভাপতি অভিজিত বড়–য়া। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- পিসিপির রাঙামাটি জেলার সহ-সভাপতি সুমিত্র চাকমা।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘দিনদিনই দেশ অরাজকতার পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রগতিশীল আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু এখন দেশে প্রগতিশীল আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়েছে। যতদিন এদেশের কৃষক, শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তি হবে না, তত দিনই এই পাহড়ের মানুষেরও মুক্তি সম্ভব নয়।’
জেএসএসের এই নেতা বলেন, ‘আজ পাহাড়ে সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাহাড়ের মানুষকে নানা অপকৌশলে নির্যাতন-নিপীড়ন করা হচ্ছে। তাদের প্রতিনিয়ত আতঙ্কে রাখা হয়েছে। যেনো তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সাধারণ মানুষকে অস্ত্র গুজে দিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আজ আমাদের নেতাকর্মীরা এ ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই সরকারের কাছে বলতে চাই এর অবসান হওয়া দরকার।’
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগের দিন রাতেই ভোটবাক্স ভর্তি করে রাখা হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ সিংহ মার্কায় ভোট দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়।’
সকালের প্রথম অধিবেশন শেষে বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক গুণেন্দু বিকাশ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি জড়িতা চাকমা, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রামভাই পাংখোয়া প্রমুখ। শেষে রিন্টু চাকমাকে সভাপতি, মিলন কুসুম তঞ্চঙ্গ্যাকে সাধারণ সম্পাদক এবং পলাশ চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট রাঙামাটি জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
